Featured

First blog post

This is the post excerpt.

Advertisements

This is your very first post. Click the Edit link to modify or delete it, or start a new post. If you like, use this post to tell readers why you started this blog and what you plan to do with it.

post

ভৌতিক

গত তিনরাত সেই একই স্বপ্ন বুঝলে ডাক্তার। কিছুতেই কাজে মন দিতে পারছি না। তার ওপর অফিসে, বাড়িতে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। দিশেহারা লাগছে। ঘোরটা যেন কিছুতেই কাটছে না।

একটানা কথাগুলো বলে হাল্কা হাঁপাচ্ছে সুদীপ।বিন্দু বিন্দু ঘাম ওর নাকের ওপর জমে উঠেছে।চোখেমুখে কেমন একটা ভয়ের ছাপ। ঠোঁটদুটো রক্তশূন্য, ফ্যাকাসে…

ও কাস্টমস এর বড়সড় অফিসার। আমার মতই বড্ড ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। ওই গত বছর মেঘালয় যাওয়ার পথেই ওর সাথে আলাপ। আমি ব্যাচেলর মানুষ। মাকে নিয়ে থাকি আর ওর একান্নবর্তী পরিবার। এখন অবশ্যি ভাঙন ধরেছে।তবে জ্ঞাতি-কুটুম,চাকর-বাকর নিয়ে প্রতিদিন প্রায় জনা বিশেক লোকের হাঁড়ি চড়ে বসু পরিবারে। আজ রবিবার সন্ধ্যেতে পারিবারিক আড্ডা ছেড়ে হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে আমার বাড়ি সুদীপকে ছুটে আসতে দেখে বেশ আশ্চয্যি লেগেছিল।

ওর বক্তব্য অনুযায়ী,সমস্যার সূত্রপাত একটা মরা কাককে নিয়ে। মাটিতে পরে থাকা একটা কাক। ঠোঁটের কোণটা থেবড়ে কেমন মাটিতে মিশে গেছে। আর তার শরীর আধখানা খাওয়া।

পরপর তিনরাত। সেই একটিই স্বপ্ন। হঠাৎ কাকটার প্রাণ ফিরে আসছে এবং আধখাওয়া শরীরে তাড়া করছে সুদীপের দিকে। পাখিটার চোখ অস্বাভাবিক রকম বিস্ফারিত। ঠিকরে বেরিয়ে আসা মতন। থেবড়ে যাওয়া বাঁকা ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা পৈশাচিক হাসি। ওর দিকে উড়ে আসছে…ঠিক সেই মুহূর্তেই ওর ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। প্রত্যেকবার নাকি একই সময়।

আমি শুনে হা হা করে হাসলুম। বলো কি হে ভায়া? মরা কাকের ঠোঁটে হাসি?! আজ তো তেসরা এপ্রিল। তার ওপর চৈত্র মাস। এসব আষাঢ়ে গপ্পো না হয়…

সুদীপের মুখের ভাব কিন্তু বিন্দুমাত্র পাল্টালো না। অত্যন্ত গম্ভীরভাবে বলল, সব বিষয়কে হাল্কা চালে নিও না ডাক্তার। ব্যাপারটা যদি আমাকে বিচলিত না করত তাহলে তোমাকে এভাবে হয়তো…

আমি পেশায় হাড়ের ডাক্তার। সার্জন। তবে প্যারাসাইকোলোজি নিয়ে ওই একটু-আধটু পড়াশুনো করি। শখে। সেটা সুদীপ জানতো। সেই কারণেই বোধ করি ছুটে এসেছে আমার কাছে। ঘটনাগুলো কাকতলীয় নাকি এর পিছনে কোনো জটিল মনস্তত্ত্ব লুকোনো সেটা উদ্ধার করতে না পারলে চলবেনা বুঝলুম। আপাতত ওকে আশ্বস্ত করতে দু’কাপ কফি বানিয়ে আনলুম। গোল্ডফ্লেক ধরিয়ে আমাদের মেঘালয় ট্যুর নিয়ে আলাপ আলোচনা করছি।ছোকরা এখনো গুম্ মেরে আছে। হঠাৎ মা ঘরে এসে ওকে দেখে কেমন আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠল- ও…ও…ও কে? সুদীপ…সুদীপ… তো..

ওর দিকে ফিরতেই দেখি সুদীপের জায়গায় একটা নরকঙ্কাল বসে। ঊরু থেকে আধখানা নেই।

বীভৎস আর্তচিৎকারে বোধ করি জ্ঞান হারিয়েছিলাম। দু’দিন পরে যখন জ্ঞান ফিরল তখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। শুনলাম, সুদীপের বাড়ির পাশের আমগাছে দুটো কাক বাসা বেঁধেছিল। কালবোশেখি ঝড়ের তাণ্ডবে তাদের একটা কোনোভাবে মারা পরে। সন্ধ্যায় অন্ধকারের মধ্যে আম কুড়োতে গিয়ে সুদীপের পায়ের চাপে কাকটার শরীর আধখানা হয়ে যায়। এই ঘটনার প্রায় দিন তিনেক বাদে সুদীপের মৃতদেহ পাওয়া যায় বড়রাস্তার ধারে। আঘাতের চিহ্ন নেই দেহে। তবে আধখাওয়া। অমনই ঝড়ের বিকেল। শরীরটা ময়নাতদন্তের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মা টেলিফোনে খবরটা শুনে আমায় বলতে এসেছিল। আর সেদিন সন্ধ্যেতেই সুদীপ আমার ড্রইংরুমে…

চকোলেট

আজ তপু বেজায় খুশি। হবে নাই বা কেন, আজ বহুদিন বাদে ওর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ মানিকমামা ওদের বাড়ি আসছেন। মানিকমামা তপুর কাছে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। যেমন সুন্দর গল্প বলেন, তেমনি অসম্ভব সুন্দর গানের গলা। আর সব বিষয়েই অগাধ পাণ্ডিত্য। যে কোনো বিষয়, যা আপাতদৃষ্টিতে জটিল তা কেমন অনায়াসেই বুঝিয়ে দেন উনি। তার ওপরে যক্খুনি আসেন, নানা রকম নতুন নতুন স্বাদের চকোলেট আনেন তপুর জন্যে। তাই মানিকমামা তপুর কাছে সকল মামার সেরা। মানিকমামা একজন স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক। ওনার একটা নিজস্ব গবেষণাগার আছে। লোকজন ওনাকে বিশেষ সমীহ করে। তপু জানে সেটা। কিন্তু তপুর কাছে মানিকমামা সব রকম আবদারের জায়গা। উনি যে এত বড় মাপের একজন মানুষ সেটা যেন তপু গ্রাহ্যই করে না। আর মানিকমামাও এই ছোট্ট আদুরে বালিকাটিকে বড্ড স্নেহ করেন।সকাল থেকেই বাড়িতে সাজো-সাজো রব পড়ে গেছে। তপু স্নান করে, সেজেগুজে পরিপাটি হয়ে, বার্বিকে ঘুম পাড়িয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ও একটু আগেই ফোন করেছিল মানিকমামাকে। আর দশ মিনিটের মধ্যেই মামা পৌঁছে যাবেন বলেছেন।

মামা ঘরে ঢুকেই একগাল হেসে তপুকে কোলে তুলে নিয়ে একপাক ঘোরালেন।তারপর ইয়াব্বড় একটা চকোলেটের বাক্স তুলে দিলেন হাতে। তপু অবাক। পেল্লায় সাইজের বাক্সের মধ্যে ওগুলো কী? ছোট ছোট সাদাটে বাদামি রঙের কতগুলো শামুক! ও কি শামুকখোল নাকি অ্যাঁ? তপু মনের ভাব চেপে রেখেই মামাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মামু এই এত্তগুলো শামুক দিয়ে আমি করবটা কী শুনি?’ ‘ধুর্ পাগলি,ও শামুক হ’তে যাবে কেন রে ও তো স্নেইল শেপেড মিল্ক চকোলেট। দেখছিস না এখানে লেখা রয়েছে’। সত্যিই তো,ও যে কেন এমন বোকা! নিজের বোকামিতে নিজেই হেসে ওঠে ও। বাক্সটা খুলে সবে একখানা মুখে পুরতে যাবে এমন সময় হঠাৎ তপু দেখল কিছু শামুকের খোলসের প্যাঁচ ডানদিকে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার গতির দিক বরাবর; আবার কয়েকটার প‍্যাঁচ ঠিক তার উল্টো। তপু ভারী মজা পেল। মামা কাছে বসে ল্যাপটপে কীসব আঁকিবুকি কাটছিলেন।চকোলেটখানা মুখে পুরে তপু মামাকে বলল, ‘দেখো দেখি, কী কাণ্ড! কয়েকটার প্যাঁচ এদিকে তো কয়েকটার আবার ওদিকে।’ চকোলেট মুখে তপুর অমনি করে বলার ধরণ দেখে মামা হেসে ফেললেন। বললেন,’জানিস তো, চকোলেট কোম্পানি এভাবে বানিয়েছে ঠিকই বাস্তবেও কিন্তু এমনটা দেখা যায়!’ তপু চোখ গোল্লা গোল্লা করে বলল,’সত্যি নাকি মামা? চোখে পড়েনি তো আগে কখনও!’ ‘আরে হ্যাঁ রে, নয়তো আর বলছি কী! তবে শোন, সময়টা ধর এই উনিশশো সালের বিশের দশক হবে। এ.ই.বয়কট নামে একজন ভদ্রলোক প্রথম লিমনা পেরেগ্রা (LYMNAEA PEREGRA) নামের এক প্রজাতির শামুকের বাহ্যিক গঠন বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখলেন ওদের খোলসের যে স্পাইরাল থাকে তা তোর চকোলেটের শামুকের স্পাইরাল অবসার্ভেশনের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ কিছু প্যাঁচ ঘড়ির কাঁটার গতির দিকে আবার কিছু কিছু উল্টো। আচ্ছা, বল দেখি তোকে কী বলেছিলাম, শামুকের খোলা অমন শক্ত হয় কেন? কী দিয়ে তৈরি হয় ওগুলো?’ ‘মনে আছে,মনে আছে,দাঁড়াও দাঁড়াও ,ইয়ে, ওই তো, ক্যালশিয়াম কার্বনেট।’ ‘এতক্ষণ লাগলো বলতে? ক্যুইজে তোকে এত সময় কেউ দেবে? আরোও ভিডিও গেম খেলো আর স্মার্টফোন ঘাঁটো! সব বুদ্ধি ভোঁতা হয়ে যাবে। এর থেকে আমার ওই ক্যাবলা ফোনগুলো অনেক ভালো।’ ‘মামা,তুমি বকা দিচ্ছ আমায়?!’ ঠোঁট ফুলে ফুঁসে উঠল তপু। ‘পারলাম তো বল।একটু দেরি হয়েছে তো কী আছে? আমার একটা প্রশ্ন ছিল, সেটাও আর বলব না। এই চল্লাম।’ ‘আরে বল বল, কাল তোকে একখানা গল্পের বই দেব ভাবছিলাম…’ কার কোন ওষুধে কাজ হয় মামা জানেন। তপুর মুখে এতক্ষণ যে একটা ঘন কালো মেঘ ছেয়ে ছিল সেটা হঠাৎ করে একদম উধাও। হাসি দেখে মনে হবে কেউ যেন একসাথে সাতশো পিদিম জ্বালিয়ে রেখেছে। এমনই ঝলমলে। ‘বলছিলাম যে মামা, কোনোটা ডানদিক, কোনোটা বাঁদিক এমন কেন হচ্ছে? সবটাই জিনের খেলা?’ ‘এই তো চাই। একদম সঠিক। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে দেখলেন, শামুকের খোলসের প্যাঁচ ঠিক কোন দিকে হবে সেটা তার জন্মের আগে থেকেই ঠিক করা রয়েছে। সবটুকুই লুকিয়ে আছে তার মায়ের নিউক্লিয়াসে। মায়ের জিনের মধ্যে। বাবা শামুকের খোল যাই হোক না কেন তা নিয়ে ছানা শামুকের খোলের কোনো মাথাব্যথা নেই। এখন, মায়ের জিনের দুটো ধরণ আছে বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে আমরা বলি ‘অ্যালিল’। একই জিন, দুটো রকমফের। ধর যদি, D অ্যালিল ডান দিকে প্যাঁচ বানায়, d অ্যালিল বানাবে উল্টো দিকে মানে বাঁ দিকে। এরা জোড়ে জোড়ে থাকে। দুটো D থাকলে, ডান প্যাঁচ, একখানা বড় হাতের ‘ডি’ (D) এর সাথে ছোট হাতের ‘ডি’ (d) এলে ডান প্যাঁচ, আর দুটোই যদি d হয় তাহলে বাঁয়ে প্যাঁচ। আর;বড় ডি (D) ছোটটার (d) ওপর দাদাগিরি চালায়। এই যেমন বুঁচকুদাদা এলে তোর ওপর কেমন হম্বিতম্বি করে আর তুই চুপটি করে থাকিস অনেকটা অমনি। ‘বড্ড বেশিই প্যাঁচ গো মামা’! ‘যা বলেছিস, এক্কেরে গিঁটকিরি ক‍্যাঁচক‍্যাঁচ’!
তপুর চোখমুখ দেখে মামা বেদম হাসলেন। ‘এই DD, Dd,dd এগুলোকে বলে ‘জিনোটাইপ’। আর,প্যাঁচ ডানদিকে থাকলে তাকে বলে ডেক্সট্রাল (D) আর বাঁ দিকে থাকলে সেটাকে বলা হচ্ছে সিনিস্ট্রাল (d) । এখন ধর,মা শামুকের জিনে রয়েছে Dd আর ছানা শামুকের জিনে ধর dd। বল দেখি,ছানার প‍্যাঁচ কোনদিকে হবে?’ ‘ডানদিকে হবে মামা, কারণ,মায়ের কাছে আছে Dd; ‘D’টা দাদাগিরি চালাবে তাই ‘d’ থেকেও তো কিছু কত্তে পারবে না আর ছানার প‍্যাঁচ তো হয় যা মায়ের জিনে আছে সেই অনুসারে। তাই ডানদিকে হবে। ঠিক বলেছি না মামা?’ ‘একদম। এইজন্যই বলি তপু, সবসময় মায়ের কথা শুনে চলবি । কারণ, মায়েরা সব জানে।’ বলে, হো হো করে হেসে উঠলেন মামা। আর তপুও বাধ্য মেয়ের মতো দু’দিকে ঘাড় নেড়ে চকোলেটের বাক্সটা বগলে পুরে ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেল।

আজগুবি

পারমিতা কাঁদছে। ডাক ছেড়ে, বুক চাবড়ে চাবড়ে কাঁদছে। ঘনিষ্ঠ প্রিয়জনের অকালপ্রয়াণে,বাঁধভাঙা শোকে মানুষ যেমনি করে কাঁদে,অনেকটা তার কাছাকাছি। কান্নার দমকে হিলহিলে সাপের মতন শরীরটায়, মৃদু হিল্লোল উঠেছে। শিরদাঁড়া বেঁকে নুয়ে পড়েছে বিছানায়। এলো হাতখোঁপাটি খুলে অগোছালো চুলের প্রান্ত সরু কোমর ছাপিয়ে খাট থেকে মাটিতে গিয়ে মিশেছে। বাদামি সুন্দর দুটি গালের চামড়ার তলা থেকে ডালিমের মতন লালচে আভা;নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম আর কেঁদে কেঁদে পাটা দুটো বিশ্রীরকম ফুলে ওঠায়,নাকটাকে আরোও খাঁদা লাগছে।

হঠাৎ সেই সুপরিচিত রিংটোন~
‘সারাটাদিন ঘিরে আছ তুমি এত রঙিন’ ওরই গাওয়া। ওর গলায় সা রে গা মা পা ধা নি এই সাতটি সুর যেন খলবলিয়ে খেলা করে। গান গেয়ে গেয়ে মাঝে মাঝে নুপূরের ছন্দে ছুমছুমিয়ে নাচে। রাঘব কিনে দিয়েছিল,চাঁদের হাট থেকে।ওর নাচ দেখতে রাঘব বড্ড ভালোবাসে।

রাঘব!

অন্য সময় হ’লে হয়তো ফোন পেয়ে লাল টুসটুস ঠোঁটের এধার থেকে ওধার মিষ্টি হাসির ঝিলিক খেলত। বুকে উঠত বেশ একটা তিরতিরে কাঁপন। বেছে বেছে সবচেয়ে পছন্দের এই গানটা সিলেক্ট করেছিল তো ও।

কিন্তু এখন পারো কান্নার মুডে আছে তাই সেসব কিছুই হ’ল না। হুঁহ্ কত্ত রং গো! সব জানা আছে। হাড়েহাড়ে চিনে ফেলেছে অমানুষটাকে। ও ফোনটা ঘ্যাঁচ করে কেটে দিল।

সারাটাদিন….

ধ্যের বাবা, এই নিয়ে বোধহয় সতেরবার হ’ল। মহারানী যে কখন কোন খুশি মনে থাকেন কিছুই বোধগম্য হয় না রঘুর। এই ভালো তো এই খারাপ।
সগ্গের নেটওয়ার্ক যে সবসময় ভালো থাকে না সেটা রাঘবকে বোঝানো বেশ শক্ত। ও রঘুকে প্রেম প্রক্সির ভার দিয়ে বেশ নিশ্চিন্তেই আছে। ব্যাটা পাকাল মাছের মতন। বেজায় চালাক। বোধহয় বুঝেও না বোঝার ভান করে। রঘু ভাবে। প্রত্যেকটাদিন তো ওই একই বোয়াল মাছের কারি খাবে আর ভোঁসভোঁস করে ঘুমোবে। আর ও ব্যাটা যে ঘোরতর জাতিস্মর হবে তা কী ঘুণাক্ষরেও আঁচ কত্তে পেরেছিল রঘু! নইলে কবেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে সগ্গো থেকে পগারপার হ’ত।
চুনোপুঁটি পেয়ে রঘুকে দিয়ে যত রাজ্যের আজেবাজে কাজ করিয়ে নিতে কসুর করে না রাঘব। মায় প্রেমিকার মানভঞ্জন অবধি। সগ্গের দরজা পেরিয়ে মর্তে বেড়াতে এসেছিল রঘু। রাঘবকে দেখে চক্ষু চড়কগাছ।পরে বুঝল ওটা ওরই বর্তমান। সেই থেকে অতীত আর বর্তমান পাল্টাপাল্টি করে মিলেমিশে থাকে। তবে রাঘবের গায়ের জোর বেশি আর কে না জানে জোর যার,সবকিছু তার। তাই রঘু বিশেষ সুবিধে কত্তে পারে না। মাঝেমধ্যে অবশ্য ইচ্ছে করে সুপার পাওয়ার দিয়ে রাঘবকে ভস্মটস্ম করার। তবে শিব ঠাকুরের আপন দেশের আইনকানুন তো! ওসব বড্ড সর্বনেশে!

পেথ্থম পেথ্থম একটু বাধো বাধো লাগলেও পারোকে রঘুর এখন ভারী পছন্দ। এই তো শিবরাত্তিতে ভোলেবাবার শিবিরে গিয়ে পারোকেই ওর ‘পার্বতী’ করার জন্যে কতই মিনতি করে এল।তা উনি শুনলে তো। নাইট-পার্টিতে উনি তো আবার কান শুনতে ধান শোনেন। ফোনালাপ আর ও চায় না। ও পারমিতাকে চায়।

এটাওটা ভাবতে ভাবতে রঘু যখন বাবার থানে গিয়ে পৌঁছল,তখন বেশ বেলা হয়ে গেছে। সূর্যদেব মেঘের আড়ালে ঢুকে পাওয়ার ন্যাপ নিচ্ছেন। গণেশ আর কাত্তিক লুকোচুরি খেলছে। দুর্গা, সরস্বতী লক্ষ্মী সবাই গেছে শপিংয়ে।

-বাবা, বাবা গো!
কঁকিয়ে উঠল রঘু।
-বাবা, পারো!
-হ্যাঁ, হয়তো পারি!কিন্তু কী সেটা তো বলো।

ঝিমুনি ভেঙে উঠে স্মিত হেসে বললেন শিব।

-পারমিতা। পারমিতাকেই চাই আমার বাবা! ও ব্যাটা রঘু, রঘু জানলে যে…

-ও নন্দী! যাও তো বাছা বৌমাকে নিয়ে এসো তো যাও। ও তৈরি তো?
-ইয়ে বাবা, রঘুকেই যদি ওখানে আবার পার্মানেন্টলি?
-কেন বলো তো?
-না, মানে রাঘবের কৌটোভত্তি অ্যালজোলাম একটু আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছে কি না! চিত্রকে তো এই বেরুতেও দেখলাম।
-অ্যাঁ?!
-আজ্ঞে, হ্যাঁ!

◆মন পবনের নাও◆

ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে বারান্দায় বসে পুরোনো মোটা অ্যালবামটার পাতা ওল্টাচ্ছিল হিমাদ্রী। শীতের শেষ বিকেলের গমরঙা মায়াবি রোদ্দুর ওর সারাটা গায়ে খেলে বেড়াচ্ছে। এবারে দেখছি ঠাণ্ডাটা বেশ জাঁকিয়েই পড়েছে! সুপর্ণা ভাস্করবাবুর ওপর কী নিদারুণ প্রতিশোধটাই নিল হ্যাঁ; ভাবতে ভাবতে উচ্চস্বরে হেসে উঠল হিমাদ্রী। আর ওর নিজের হাসির দমকেই কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগল মধ্যপঞ্চাশের পৃথুল শরীরটা। হাসতে হাসতে গা থেকে আলগা হয়ে যাওয়া দামী জমকালো কাশ্মীরি শালটা ভালো মতন গায়ে পেঁচিয়ে নিল হিমাদ্রী।

সারাদিন শ্বাস ফেলবার জো নেই এত্ত কাজের চাপ‌। বিশাল অঙ্কের মাইনে ছাড়াও মুম্বইয়ের অন্যতম পশ এলাকায় বারোশো স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাট,তিন-তিনটে অত্যাধুনিক পর্শে গাড়ি, বছরে যতবার খুশি বিদেশ সফর এমনি এমনিই তো আর কোম্পানি দেয় না। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উজ্জ্বল ছাত্র এবং বতর্মানে ম্যানেজমেন্টের উচ্চপদে আসীন হিমাদ্রী তাই নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করে। সে যে প্রকৃতপক্ষেই সুখী এবং তার বিলাসব্যসনে প্রাচুর্যের বিন্দুমাত্র অভাব নেই,তা নিজমুখে জাহির করতেও বড্ড ভালোবাসে। নিন্দুকে বলে, লোকটা আদ্যন্ত জাঁহাবাজ! এসব যে ওর কানে একেবারেই আসে না তা নয় কিন্তু হিমাদ্রী মনে করে শত্তুর থাকা ভালো নয়তো কাজের থ্রিলটাই থাকে না।

অ্যালবাম মানেই স্মৃতির ঠাসবুনোট। কতশত সম্পর্কের ভিড়। মনের কিনারায় দাঁড়ানো সম্পর্কগুলোও কত যত্নে সংপৃক্ত যে এই অ্যালবামে! ভাবতে ভাবতে সেই ছবিটা চোখে পড়ে যায় ওর। এটা এইখানে! এইতো…এইতো ওর তুলি আর ও, তুলির সেই মন পবনের নৌকায়। ফ্ল্যাশব্যাকে ঝলসে ওঠে কলেজের করিডরে লাল স্কার্ট,কালো জামায় তুলি যখন সকলের সামনে এগিয়ে…
আস্তে করে চশমাটা চোখ থেকে খুলে পাশের টেবিলে রাখে ও। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কলেজের দিনগুলো। বোধহয় দু এক ফোঁটা জল চিকচিক করে চোখের কোলে। ধীরে ধীরে চোখদুটো বুজে ফেলে…

দিনগুলো তখন স্বপ্নের মতন কাটত হিমাদ্রীর। তুলি ছিল ওর দু’ক্লাস সিনিয়র। পড়াশোনা গানবাজনা গিটার সবেতেই চৌখস। ফ্রেশার্স ওয়েলকামের দিন রীতিমতো চাটনও খেতে হয়েছিল তুলির কাছে। তবে ‘হবিস’গুলোয় মিল থাকায় বন্ধুত্বটা গাঢ় হতে খুব বেশি সময় লাগে নি। কলেজ কেটে হামেশাই এদিক সেদিক করে বেড়াত ওরা।

সেদিন কোনো প্রিপ্ল্যানিং না করে এমনিই ঘুরতে ঘুরতে বাবুঘাটে চলে গেছিল। নৌকায় চাপতে বড্ড ভালোবাসত তুলি। ঘাটে নৌকো দেখেই বাচ্চা মেয়েদের মতোই লাফালাফি শুরু করে দিল। এদিকে তো হিমাদ্রীর হাড় হিম। ওর নাকি নৌকায় ফাঁড়া আছে। এক জ্যোতিষী হাত দেখে বলেছিল। সেটা তুলিকে বলতেই একেবারে দাঁতমুখ খিঁচিয়ে উঠল।

-হেল উইথ ইয়োর রাবিশ ফাঁড়া! আমার জন্য চল হিমু। প্লিইইজ! আমি আছি তো!
বলে নরম হাতটা দিয়ে ওর হাতটা চেপে ধরে আশ্বস্ত করল ওকে।

ফুরফুরে হাওয়ায় নৌকাবিহার মন্দ লাগে নি হিমাদ্রীর। তুলির খোলাচুল হাওয়ার ঝাপটায় ওর চোখেমুখে লাগছিল। হিমাদ্রীর হাতটা আঁকড়ে ধরে ওর নরম বুকের ঠিক মাঝখানে রেখে মিষ্টি দরাজ গলায় গাইছিল তুলি,

‘লাগিয়ে পালে তোমার খোলা হাওয়া…’

সেরাতে ঘুম হয়নি ঠিকমতন। মাথার মধ্যে একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল।তুলিকে চাই, তুলিকেই। কিন্তু কী করে!

পরদিনই যেটা ঘটল তার বিন্দুমাত্র আগাম সম্ভাবনা পায়নি হিমাদ্রী। করিডরে একঝাঁক ছেলেমেয়ের মাঝে তুলি হঠাৎ ওর সামনে। এমনিতেই চোখ ঝলসানো সুন্দরী। তার ওপরে লাল স্কার্ট কালো টপে দেখে হিমাদ্রীর দমবন্ধ হওয়ার জোগাড়।

-হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিস কী? ভালোবাসিস আমায়?

হিমাদ্রী হিমশিম খেয়ে গেল। স্বপ্নটপ্ন দেখছে না তো! কাল সারাটারাত যাকে নিয়ে স্বপ্নে মশগুল ছিল আজ সেই-ই!

-কী গো! ওঠো,ওঠো! ঠাণ্ডা লেগে যাবে তো ! ঘরে গিয়ে শোবে চলো। এভাবে বসে বসে কেউ ঘুমোয় নাকি! তোমায় ফেলে কোথ্থাও দেখি নড়ার উপায় নেই। দু’মিনিটের জন্যে ঘর থেকে বেরিয়েছি কী বেরোইনি বাবু ঘরদোর খোলা রেখে ঘুমে কাদা।

-অ্যাই কটকটি, তোর জন্যে সারপ্রাইজ আছে।

তুলি অবাক হয়ে হিমাদ্রীর দিকে তাকাল।

এই মধ্য পঞ্চাশেও তুলি সেই একইরকম সুন্দরী। বরং বয়স বাড়ার সাথে সাথে চেহারার আভিজাত্য যেন আরোও দিন দিন বাড়ছে। মাথার ডানদিকে রূপোলি জরির মতন দু’টো পাকাচুল আর থুতনির কাছে ওই কালো তিলেই তুলি তিলোত্তমা।

কাজের চাপে সত্যিই সময় দেওয়া হয় না এই মানুষটাকে। কম কষ্ট তো পেল না জীবনে! নিজের কেরিয়ার, শখ শৌখিনতা সবক্ষেত্রেই তো কেবল স্যাকরিফাইস আর কম্প্রোমাইজ। হিমাদ্রীর যোগ্য প্রেমিকা হয়ে ওঠার জন্য, হিমাদ্রীর যোগ্য সহধর্মিণী হয়ে ওঠার জন্যেই যেন মেয়েটা পাগল।অথচ হিমাদ্রীরই সময় দেওয়া হয় না। একফোঁটাও। আবার দেখো অনুযোগ অভিযোগও নেই। কেমন হাসিমুখে সমস্ত কিছু করে চলে। নীরবে..মুখ বুজে।

-কীসের সারপ্রাইজ?

-ভেনিস যাব চল। সারাটাদিন নৌকোতেই কাটাব। আমার আবার জলে ফাঁড়া আছে জানিসই!থাকবি তো সঙ্গে সবসময়?

-পাগল কোথাকার। চল ভেতরে…
বলে, হাসতে হাসতে ঘরে চলে গেল তুলি।

হিমাদ্রী দু’চোখ ভরে দেখল তুলিকে।হাসিটা বড়ই উজ্জ্বল।

আনন্দের… চিরদিনের…
(খিচিক্ 📷 – রোহণ মাইতি)

✨আলো ✨

মিট্টি লেবে গোওওওও মিট্টি…মিট্টি লেবে গো…হাঁক পাড়তে পাড়তে মাথার ওপরের ঝাঁকাটাকে দু’হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে ফুলি। কেউ যদি প্রদীপ বানাতে মাটি কেনে!
আর দিন তিনেক পরেই দেওয়ালি। আলোর উৎসব।  বড়লোক বাবুরা সব বাড়িতে আলো দেবে । মস্ত মস্ত বাড়িগুলো সাঁঝের বেলায় আলোয় ঝলমল করবে। এসময়ই তো মাটির চাহিদা সবচাইতে বেশি। মায়ের পিছু পিছু মাটির ঝাঁকা নিয়ে বড় রাস্তার দিকে হেঁটে চলল ফুলি।গন্তব্য অজন্তা শিল্পালয়। আজ অনেক আশা মনে ওর। এই মাটি বিক্রির টাকা থেকে হয়তো ওর একটা নতুন জামা হবে। একটু মিষ্টি খেতে পারবে। জিলিপি খেতে খুব ভালোবাসে ফুলি। হাঁ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রোজ খগেন কাকুকে জিলিপি ভাজতে দ্যাখে ও। পয়সার অভাবে কিনে খেতে পারে না। পুজোর দিনে মাকে বললে হয়তো মা কিনে দেবে। ভাবতে ভাবতে আনন্দে ওর চোখ দুটো চিকচিক করে ওঠে।
ফুলিরা রেলবস্তির কলোনিতে মামা-মামীর সাথে থাকে। ওর বাবা নেই। মামা রেলের গ্রুপ-ডি কর্মী। ওই বাড়িতে একখানা মোটে শোবার ঘর। মামা-মামী থাকে। বারান্দার এককোণে কোনোমতে মা-মেয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পেয়েছে। তাও দু’বেলা মাকে মামা-মামীর গালমন্দ শুনতে হয়।ও লুকিয়ে লুকিয়ে ওর মাকে কাঁদতে দেখে। বড্ড কষ্ট হয় ফুলির। রাগও হয় খুব। কিন্তু ও অসহায়। দুর্বল আর ভীতু। কার কাছে নালিশ করবে ও ?  কবে যে ও বড় হবে! তখন ঠিক ও ওর মায়ের কষ্ট দূর করবে। 

এবারে দুগ্গাপুজোর আগ দিয়ে যে বন্যা হল তাতে যে কত্ত ফসল নষ্ট হল তা আর বলার নয়,খেতখামার,বাড়িঘর,দোকানপাট সবই তো অদ্ধেক জলের তলে।ঘরের মধ্যেও তো তা প্রায় কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে ছিল।আর  বারান্দাটা ভেসে গেছিল। রেলের ব্রিজ ভেঙে পড়ল। বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হল আর কী! তাই পুজোতে তো আর ত্যামন জাঁক হল না। তারপর পুজোর আগ দিয়ে মায়ের মশার কামড়ে ডেঙ্গি না কী জানি হল, কী রুগ্নটাই না হয়ে গেছিল মা! ওদের কলোনির অনেকেরই হয়েছিল। সবাই হসপিটালে ভর্তি হল।তবুও দু’বেলা মামা শাপশাপান্ত করত ফুলিকে। পরে অবশ্যি মা ভালো হয়েই ফিরেছে। দুর্গাপুজোর দিনগুলো তাই বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে কেটেছে ফুলির। ও আশায় আশায় ছিল কবে কালীপুজো আসবে। সব অন্ধকার দুঃখ কষ্ট কেটে আলোর উৎসবে মাতবে সবাই।
শিল্পালয়ে পৌঁছোতে পৌঁছোতে প্রায় বিকেল হয়ে এল। পশ্চিম আকাশে সুয্যি-ভাসান হবে হবে। লালচে-কমলা আলোয় সারা আকাশ ছেয়ে গেছে। খানিক হাঁকাহাঁকিতেই দীনুদাদা ঘর থেকে বেড়িয়ে এলেন। চোখে ডাঁটিভাঙা পুরু চশমা। কাঁপা-কাঁপা হাত। শরীরটা ‘দ’ এর মতন বেঁকে গিয়েছে। বয়স প্রায় আশির কোঠায়। মৃৎশিল্পী। মায়ের মূর্তি গড়েন। সঙ্গে মাটির প্রদীপও। একা মানুষ। বিয়ে-থা করেন নি।তবে ইদানীং বয়সের ভারে আর পেরে ওঠেন না সামাল দিতে সবদিক।

ফুলিরা এসে বুড়োকে মাটির জোগান দিয়ে যায়। 
-এবারের বাজার খুব খারাপ মা রে। বিজলি বাতি পিদিমেরে খায় ফেলি দিলো। ঘোষবাড়ির কত্তামশাই এবারে আর অডারই দিলে না। সারা বাড়ি নাকি ‘টুনি’ দিয়ে সাজানো হবে শুনলাম। সে তখন ছিল বড়কত্তাবাবুর আমল।মায়ের পুজোয় সারাবাড়ি পিদ্দিমের আলোয় ঝলমল কত্ত। দূর-দূর থেকে ছেলেপুলেরা এসে ভিড় জমাত। 

কতো আলোর রোশনাই…বাজি…রংমশাল..শুনছি নাকি এই শিল্পালয়টাও উঠিয়ে দিতে হবে পুজোর পর পরই। এ জমি নাকি বিক্কির…
কথাগুলো একনাগাড়ে শুনতে শুনতে ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছিল ফুলির মুখ। এবার ও ভ্যাঁ করে কেঁদেই ফেলল। গলার কাছে যে নরম কষ্টটা তুলোর মতন দলা পাকিয়ে আটকে ছিল, চোখের জলে তা মুক্তি পেল।
এ জমি বিক্কির হবে না দীনুদাদা কিছুতেই হবে না। পিদিমের আলো জ্বলবে, ঘরে ঘরে জ্বলবে। 

বলে দুপদাপ করে দৌড়ে গিয়ে কোথ্থেকে একখানা পুরোনো কালিমাখা প্রদীপ জোগাড় করে দেশলাই কাঠির বাক্স থেকে কাঠি বের করে ফস্ করে আলো জ্বালালো ফুলি। 
সেই আলোয় উদ্ভাসিত ফুলির মুখ দেখে মনে হয় শ্যামা মা-ই বুঝি এলেন ফুলির বেশে। 
মা, মা গো,  দীনদুখিনী দয়াবতী মা,মঙ্গল করো মা। মঙ্গল কর।
বিড়বিড় করতে করতে আবেগে ছলোছলো চোখে আকাশের দিকে মুখ তুলে হাত জোড় করে নমস্কার করলে বুড়ো।
তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। আকাশে একটা-দুটো করে তারা ফুটতে লেগেছে। ফুলির মা দৌড়ে বুড়োর ঘরে ঢুকে পুজোর আসন থেকে শাঁখ বের করে গুনে গুনে তিনবার ফুঁ দিল…
                                        -তৃষিতা ‘১৭
◆◆◆
[ বিজলিবাতির দাপটে মাটির প্রদীপ এখন প্রায় কোণঠাসা। সকলের কাছে তাই অনুরোধ এই দীপাবলির উৎসবে মাটির তৈরি প্রদীপকেও সামিল করুন। 
আলোয় থাকুন।ভালো থাকুন। 🙂 ]